আমিসহ বাড়ির সবাই কোয়ারেন্টিন নিয়ম মেনে চলছি

নিজ তাগিদে ঢাকার আসাদ অ্যাভিনিউর বাড়িতে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দেড় মাস যুক্তরাজ্যে থাকা এই শিল্পীর শরীরে কোনো উপসর্গ না দেখা গেলেও শুধু সচেতনতা তৈরির জন্য এমনটাই করেছেন তিনি। কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

হোম কোয়ারেন্টিনে কীভাবে সময় কাটছে আপনার?
বাসায়ই আছি। কোথাও যাচ্ছি না। গান শুনছি, বই পড়ছি—এসব করেই কেটে যাচ্ছে সময়। আমিসহ বাড়ির সবাই কোয়ারেন্টিনে আছি, কোয়ারেন্টিনে থাকার সব নিয়ম মেনে চলছি আমরা।

আপনার শরীরে তো কোনো উপসর্গ ছিল না। এরপরও হোম কোয়ারেন্টিন বেছে নিলেন?
মেয়ে ও নাতিদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমি দেড় মাস লন্ডন ছিলাম। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কথা শুনি। এরই মধ্যে এই ভাইরাস পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে সংক্রমিত হয়েছে। আমি যেহেতু অনেক দিন পর দেশে এসেছি, তাই দেশ ও পৃথিবীর একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া। তাই তো শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও আমি স্বেচ্ছায় ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ মেনে চলছি। আমি মনে করি, সচেতনতাই পারে করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে। দেশ ও বিদেশের সবাইকে একটা বার্তা দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আপনি কি মনে করেন করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা আমাদের দেশের মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে?

আমাদের দেশের অনেকে এখনো করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়টি বুঝতে পারছে না। সারা পৃথিবীতে এই করোনাভাইরাস কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা কিন্তু আমরা দেখছি। আমাদের দেশেও কী হবে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। খবরাখবর দেখছি। তবে আমার চাওয়া, দেশের মানুষ সচেতন হোক। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, তা যেন সঠিকভাবে সবাই মেনে চলে। সবাই যেন নিজেকে এবং অন্যকেও নিরাপদে রাখে। নয়তো আমরা আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হব।

করোনাভাইরাসের এই সময়টা থেকে রক্ষা পেতে আপনার পরামর্শ কী?
সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আমাদের একটা কথাই বারবার বলছেন, কোনো ধরনের সমাবেশ, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো আড্ডায় যাওয়া চলবে না। বারবার হাত ধুতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

লন্ডনে আপনার তো গানের অ্যালবামের প্রকাশনা হয়েছিল।
প্রথমবার কোনো গানের অ্যালবামের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়েছে লন্ডনের দ্য হাউস অব লর্ডসে। এটি আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন, অসাধারণ মুহূর্তও। আশা ভোসলে, রাহাত ফতেহ আলী খান, হরিহরণ, আদনান সামির মতো শিল্পীরা এই অ্যালবামে গান গেয়েছেন। একমাত্র আশাজি (আশা ভোসলে) ছাড়া কেউ এর আগে বাংলায় গাননি। সবাইকে নিয়ে বাংলা গান করার একটা প্রকল্প ছিল, একটা স্বপ্ন ছিল, শেষ পর্যন্ত স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে।

গান শুনে সময় কাটছে বলছিলেন। কোন শিল্পীর গান শোনা হচ্ছে?
আমি সবার গান শুনি। আমার প্রজন্মের, তার আগের প্রজন্মের এবং এখনকার প্রজন্মের গানও শুনি। এখনকার অনেকে আমাকে নতুন গান প্রকাশ পেলে পাঠায়, আমি শুনে মতামতও দিই। সব ধরনের গান শুনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *