ওয়াশিংটনে বার্নি স্যান্ডার্স এলে কেমন হবে বিশ্ব

নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জয়ের মধ্য দিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে জোর লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে রেখেছেন বার্নি স্যান্ডার্স।

বার্নি স্যান্ডার্স ডেমোক্র্যাট না হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন পেতে লড়ছেন। গেলবারও লড়েছিলেন এবং হিলারি ক্লিনটনের কাছে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আর মনোনয়ন পাননি। ৭৮ বছর বয়সী এ ভারমন্ট সিনেটর এবার বেশ ভালোই লড়াই করছেন। এরই মধ্যে আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেশ ভালো চমক দেখিয়েছেন তিনি। ‘বহিরাগত ও বিচ্যুত’—এমন অভিধা এবার তেমন কাজ করছে না।

শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন কে পাবেন, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ সময়। কিন্তু এটা একরকম নিশ্চিত যে, স্যান্ডার্স মার্কিন রাজনীতিতে যে ঢেউ তুলেছেন, তা শুধু ডেমোক্রেটিক পার্টিই নয়, ওয়াশিংটনের ভিত্তিতেই বদল আনতে পারে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, কর, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এখন অনেক মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটও স্যান্ডার্সের সুরে কথা বলছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তরুণ ভোটারদের পাশে পেতেই তাঁরা এসব কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত স্যান্ডার্স মনোনয়ন পেলে কত কী পরিবর্তন হবে, তা বলাটা সত্যিই দুরূহ। সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, আসছে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যে দল বা যে ব্যক্তিই জিতুন না কেন, মার্কিন রাজনীতিতে কিছু বিষয় আর আগের মতো থাকবে না। বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধোত্তর পশ্চিমা রাজনীতিতেই এ ঢেউ এক নতুন ধারা নিয়ে আসতে পারে।

এই পরিস্থিতির উৎস খুঁজতে হলে অর্থনীতির দিকে তাকাতে হয়। স্নায়ুযুদ্ধের পর যে ‘ওয়াশিংটন ঐক্য’ গড়ে ওঠে, তার মূলে ছিল মুক্তবাণিজ্য ও বাজার, বাজেট শৃঙ্খলা, বেসরকারীকরণ ইত্যাদি। কিন্তু ভুলে যাওয়া হয়েছিল যে, এই অবাধ পুঁজি ও বেসরকারীকরণ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষের জন্য কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে। অথচ এই বিপদ এখন যুক্তরাষ্ট্রে শুধু উপস্থিতই নয়, রীতিমতো বাস্তব। বিশ্বায়নের বল্গাহীন ঘোড়ার দাপটে মার্কিন মধ্যবিত্ত ক্রমে কাজ হারিয়ে আজ পথে বসার জোগাড়। সম্পদবৈষম্য নিয়ে এত এত লেখা হয়েছে যে, এর উল্লেখ এখানে অবান্তর। এই বাস্তবতাই মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ওভাল অফিসের পথটি প্রশস্ত করেছিল। মজার বিষয় হলো স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার পথটিও তৈরি করেছে এই একই বাস্তবতা।

একই বাস্তবতা থেকে ট্রাম্প ও স্যান্ডার্সের উত্থান হলেও এটি মোকাবিলায় দুজনের পথ আলাদা। এ কারণেই দুজন দুই দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে লড়ছেন। তাঁদের দুজনই অবশ্য দুই দলে বহিরাগত। দুজনই দেশ ও দেশের বাইরে বেশ কিছু নীতির খোলনলচে বদলে ফেলতে চান। ডোনাল্ড ট্রাম্প কী কী বদলাতে পারেন, তার একটি নমুনা ইতিমধ্যে বিশ্ব দেখেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ট্রাম্প তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেননি। বরং সাবেক বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ের অনেক অর্জনকে তিনি হেলায় জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

কথা হলো স্যান্ডার্স যদি প্রেসিডেন্ট হতেন, তাহলে কী হতে পারত কিংবা আগামী নির্বাচনে তিনি জিতলে কী হবে? নির্বাচনী প্রচারে অবশ্য স্যান্ডার্স অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতি নিয়েই কথা বলছেন বেশি। কিন্তু কে না জানে অভ্যন্তরীণ অনেক নীতির পরিবর্তন চেষ্টা শেষ পর্যন্ত নানা প্রতিবন্ধকতায় আটকে যায়। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট চাইলে নিজ ক্ষমতাবলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেন।

সম্ভাব্য এমন কিছু পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন কী হতে পারে? ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অটোর মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসিকে বলেছেন, ‘মুক্তবাণিজ্য দুই দলের জন্যই এক বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন চিন্তা হাজির করেছেন স্যান্ডার্স।’

এই নতুন চিন্তাই স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার ভিত, যা তিনি চার দশক ধরেই বলে আসছেন। তফাত হলো, এত দিন তিনি খালি হলঘরে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন, কেউ শুনত না। এখন পোড় খাওয়া মানুষেরা তাঁর কথা শুনতে দল বেঁধে ছুটে আসছে। মুক্তবাণিজ্যের বিষফোড়া সরাতে স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের মতোই বাণিজ্যযুদ্ধের কথা বলছেন। তবে তাঁর ধরন আলাদা। ২০১৮ সালে ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাণিজ্যে অসাম্য রোধে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র বলতে আছে শুধু শুল্ক। তবে এটি ব্যবহার করতে হবে তাদের বিরুদ্ধে, যারা শ্রমিক অধিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। অর্থাৎ, স্যান্ডার্স শুধু চীনের মতো এক-দুটি বাণিজ্য প্রতিযোগীর ওপর শুল্কারোপ করেই ক্ষান্ত হতে চান না। এত বড় যুদ্ধ তিনি করবেন কী করে? তাঁর উত্তর, সারা বিশ্বে এক নতুন আন্দোলন শুরু করে।

বাণিজ্য ক্ষেত্রে স্যান্ডার্সের অবস্থান পরিষ্কার হয়, যখন তিনি নাফটা (নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) ও ইউএসএমসিএ (ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্ট) দুইয়েরই বিরোধিতা করেন। তাঁর দৃষ্টিতে, নাফটার স্থলাভিষিক্ত নতুন এ চুক্তি বিশ্বের জলবায়ুকে আরও বড় ঝুঁকিতে ফেলবে। ট্রাম্পের সঙ্গে স্যান্ডার্সের তফাতটি এখানেই। ট্রাম্প যেখানে প্রতিশ্রুতি দেন ‘ভালো চুক্তির’, সেখানে স্যান্ডার্স বলেন ‘ন্যায্য চুক্তির’ কথা। আর এটিই পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানটি পরিষ্কার করে দেয়।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ ও প্রচার-দু ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রাখছেন ৭৮ বছর বয়সী এ ভারমন্ট সিনেটর। 

ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করা বার্নি স্যান্ডার্সের পররাষ্ট্রনীতির মূলে রয়েছে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান। এ ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দিতে চান বিদ্যমান যুদ্ধপ্রেমী প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ওপর। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্যান্ডার্স গত বছর কথা বলেছিলেন মার্কিন গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) সঙ্গে।

চীন প্রসঙ্গে সিএফআরকে স্যান্ডার্স বলেন, চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অল্প কিছু বিকল্প রয়েছে। বিশেষত উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ ও হংকং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকারই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বিষয়টি জাতিসংঘে কিংবা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র তুলতে পারত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন একে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। স্যান্ডার্স চীনের সঙ্গে সংকটকে আলাদাভাবে মোকাবিলার চেয়ে মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠিত সংজ্ঞা ও এর সুরক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে সচল করতে চান।

স্যান্ডার্সের পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। এ ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে করা ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) পুনর্বহালের পাশাপাশি একে ভিত্তি ধরে আরও এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একইভাবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সেখানে একটি জনবান্ধব ও শক্তিশালী প্রশাসন গড়তে সহায়তা করতে চান। পরিবর্তন আনতে চান সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কেও। তাঁর মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কে পরিবর্তন আসা জরুরি। সস্তা জ্বালানি তেল, আর অস্ত্র-বাণিজ্যের দোহাই দিয়ে ধর্মীয় উগ্রতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকতে পারে না।’ তবে স্যান্ডার্স এ-ও স্বীকার করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্ক রাতারাতি বদল হতে পারে না। সিএফআরকে তিনি বলেন, ‘এটি দুঃখজনক যে, নিজের সুরক্ষার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক সময় অগণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু এটা মনে রাখাও জরুরি যে, নিরাপত্তার জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের ওপর নির্ভর করাটা শেষ পর্যন্ত একটি নিষ্ফল জুয়া।’

স্যান্ডার্সকে এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে সাব্যস্ত করে জোর প্রচার চালাচ্ছে ইসরায়েল। কারণ, স্যান্ডার্সের মতে, দুই রাষ্ট্রই ফিলিস্তিন সংকটের একমাত্র সমাধান। আর এটি হতে হবে ১৯৬৭ সালে নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে জেরুজালেম হবে দুই দেশেরই রাজধানী। সমঝোতায় উপনীত হতে মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষকে চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করবে স্যান্ডার্সের যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলা সংকটের সমাধান হিসেবে স্যান্ডার্স নিকোলাই মাদুরো সরকারের পতন ত্বরান্বিত করার বদলে মাদুরো ও তাঁর প্রতিপক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হবে শুধু দেশটির জনগণের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে এবং মুক্ত মতের দমন ও নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর যেকোনো পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। সিএফআরকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁর সরকার ওই অঞ্চলে শাসক পরিবর্তনের মতো কোনো কিছুতে যুক্ত হবে না। তিনি এমনকি ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির জনগণকে শাস্তি দিচ্ছে, শাসকদের নয়।

বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেও এখনো তা হয়নি। স্যান্ডার্সও এই চুক্তিকে বিশ্বশান্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এ ক্ষেত্রে নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তি প্রক্রিয়া তিনি একই সঙ্গে চালাতে চান। ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার আচরণের বিপরীতে তাঁর প্রশাসন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে চাপ প্রয়োগের নীতি নেবে বলে তিনি জানান।

স্যান্ডার্সের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে আফ্রিকা অঞ্চল। ২০৫০ সাল নাগাদ আফ্রিকায় বাস করবে গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ। তাঁর মতে, বৈশ্বিক জনমিতির এমন ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ার আগেই আফ্রিকাকে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে অঞ্চলটি ১৯ ও ২০ শতকের মতো আবারও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কবলে না পড়ে। তাই এই সময়ের মধ্যে আফ্রিকাকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে আসতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর মূল লক্ষ্য হবে সম্পদবৈষম্য কমানো। তাঁর ভাষ্যমতে, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশের বাস যুক্তরাষ্ট্রে, যারা মোট সম্পদের ২৫ শতাংশই ভোগ করছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে এ বৈষম্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে অঞ্চলটিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য একটি মীমাংসা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, স্যান্ডার্সের পররাষ্ট্রনীতিতে শ্রমিক অধিকার, সম্পদবৈষম্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই জ্বালানি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর পুনর্মূল্যায়ন, মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। তাঁর মতে, এ বিষয়গুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের উচিত উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি টিপিপি, নাফটার মতো চুক্তিগুলোর কট্টর সমালোচক হিসেবে আগে থেকেই পরিচিত। তাঁর মতে, বাণিজ্য চুক্তিগুলো করপোরেট নির্বাহীদের স্বার্থে নয়, শ্রমিক স্বার্থেই হওয়া উচিত। যুদ্ধ বিরোধিতার পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। সে ক্ষেত্রে চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে গুণগত পরিবর্তন হতে পারে, যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসেন।

বার্নি স্যান্ডার্স পরিবর্তনের কথা বলে এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরার মাধ্যমেই জনপ্রিয় হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পান বা না পান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতুন বা না জিতুন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বর্তমানে নিঃসন্দেহে ‘স্যান্ডার্স এফেক্ট’ কাজ করছে। ট্রাম্পের শাসন বলে দিয়েছে যে, দলে বহিরাগত হলেও তিনি মানুষকে ক্রমাগত রিক্ত করে চলা বিদ্যমান কাঠামোর বাইরের লোক নন। স্যান্ডার্স শেষ পর্যন্ত কতটা কী করবেন বা করতে পারবেন, তা অনেকগুলো যদি-কিন্তুর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, স্যান্ডার্সের দৃষ্টি সত্যিকারের বহিরাগতের মতো। তাই তাঁকে ঠেকাতে পুরো কাঠামোই একযোগে কাজ করছে ও করবে।

এবারও আগেরবারের পুনরাবৃত্তি হলে ক্ষতি নেই। কারণ, এলিজাবেথ ওয়ারেন বা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজদের মতো রাজনীতিকেরা থাকবেন, যাদের খোলাখুলিই বলা হয় ‘স্যান্ডার্সপন্থী’।

শেয়ার করুন ও লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: