করোনাকালে মাত্র একটা ফোন কল!

সুজনের বন্ধু গিয়াসের সঙ্গে তিন বছর আগে ছোট একটা বিষয়ে মতবিরোধ হয়। যার ফলে গত তিন বছরে তাদের বন্ধুত্ব তো দূরের কথা, কথাও হয়নি কখনো। কোনো কমন ফ্রেন্ডের দাওয়াতেও এক জনের সঙ্গে দেখা হবে জেনে এড়িয়ে গেছে অন্য জন। এত গেল বন্ধুর কথা, অনেকেরই আত্মীয়, ভাই-বোন এমনকি বাবা মায়ের সঙ্গে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে নানা কারণে।

ছোট ছোট অভিমান জমে জমে এখন যেন তা দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পর্কের ভেতরে। আজকের এই দিনে করোনা নামের মহামারি যখন পুরো বিশ্বকে গ্রাস করছে, এই অবস্থায় বার বার সেই প্রিয় মানুষদের কথা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে, কিছুটা ছাড় দিলে সম্পর্কগুলো হয়ত এমন হতো না?

পরিবার বা বন্ধু সবার জন্য সব সময় শুভকামনা থাকে আমাদের। চেষ্টা থাকে প্রিয় মানুষদের ভালো রাখার। আর প্রতিদিনের ব্যস্ততাও তাদের জন্য। তারা ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি। কোনো কারণে মতের অমিল বা সাময়িক অভিমানে তাদের থেকে দূরে যাওয়া বোকামি। এতে নিজেরই কষ্ট হয় বেশি, তৈরি হয় মানসিক চাপ।

এই করোনার সময়ে প্রিয় মানুষদের জন্য আমাদের চিন্তার শেষ নেই। অথচ তাদের অনেকেরই কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়ত আজ হচ্ছে না। কিন্তু এই দূযোর্গে আপনি তাদের মনে করছেন, এটা জানলে তাদেরও ভালো লাগবে। আর আপনজনদের সঙ্গ সম্পর্কের বরফ গলাতে আপনার একটি ফোন কলই যথেষ্ট।

একটু অস্বস্তি লাগছে অনেক বছর পর প্রথমে ফোন করতে? আগেই মানসিক কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। তাতে আপনার জন্য সুবিধা হবে এই পরিস্থিতি সুন্দরভাবে মোকাবিলা করতে।

ধরুন, ঝগড়ার পর তিন বছর কথা না হওয়া বন্ধুকে ফোন দিলে, তিনি নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। যেমন-

• বহুদিন পরে আপনার ফোনে ওপারের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসতে পারে

• হয়ত ভালো লাগায় অভিমান চোখের পানিতে মিশে যাচ্ছে

• আবার রেগেও যেতে পারে

• হতে পারে তিনি ফোনটি রিসিভই করলেন না

• হতাশ না হয়ে একটা ছোট্ট “সরি” লিখে এসএমএস দিয়ে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *