করোনাভাইরাস: নারায়ণগঞ্জকে বাংলাদেশের ‘এপিসেন্টার’ মনে করছে আইইডিসিআর

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর এক মাস পরে এসে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে না পারলে এ ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশকে বিপদজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউন আরো কঠোর করা এবং সাধারণ ছুটি বাড়ানোরও প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের একমাসের মাথায় পর পর কয়েকদিন টানা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার একদিনে সহস্রাধিক মানুষকে পরীক্ষা করে ১১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত সপ্তাহের ৬ দিনে ২৬৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন বাংলাদেশে।

এ পর্যায়ে সংক্রমণ ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২১টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছে রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর। এছাড়া চারটি জেলায় একাধিক ক্লাস্টারে কমিউনিটি সংক্রমণ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিবিসিকে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ এখন ক্লাস্টারের চেয়ে বেশি কিছু এটি এখন বাংলাদেশে সংক্রমণের এপিসেন্টারে পরিণত হয়েছে।”

“ঢাকার মধ্যে টোলারবাগসহ পুরো মিরপুরেই আমরা রোগী পাচ্ছি, এছাড়া ওয়ারি, বাসাবো এলাকায় সংক্রমণ পাচ্ছি বেশি। তবে ক্লাস্টারগুলোর মধ্যে গাইবান্ধায় সংক্রমণ বাড়েনি। কিন্তু মাদারীপুরে কয়েকজন রোগী সেরে ওঠার পর আবার সংক্রমিত হওয়াটা চিন্তার বিষয়।”

জাতিসংঘ এইচআইভি/এইডস সেকশনের প্রধান কর্মকর্তা ও বৈশ্বিক সমন্বয়ক ডা. মনিকা বেগ বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বর্তমান সংক্রমণের অবস্থা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “আমরা এখন একদম উঠছি উপরে। খুব তাড়াতাড়ি। আমার মনে হয়না যে এটা আর ক্লাস্টারের মধ্যে থাকছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *