কলেজছাত্রটি প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

124

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা কলেজছাত্রের লাশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। সহপাঠীরা বলছেন, কলেজছাত্রটি প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায় মেয়েটির পরিবার হত্যা করে লাশ রেললাইনে ফেলে দিয়েছে। অপরদিকে মেয়েটির পরিবার নিজেদের নির্দোষ দাবি করে পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছে, কলেজছাত্রটি তাঁদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত।

পুলিশ জানিয়েছে, কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে নতুন মামলা হবে।

নিহত কলেজছাত্রের নাম শুভজিৎ সানা (১৯)। শনিবার রাত আটটায় খুলনার ফুলতলায় রেলওয়ে থানা-পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। গত রোববার রাতে তাঁর লাশ নিজ বাড়ি আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি গ্রামে এসে পৌঁছায়।

শুভজিৎ বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহপাঠীরা জানান, শুভজিৎ কয়েক দিন আগে একই কলেজের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের দোতলার সিঁড়িতে তিনি ওই মেয়ে ডেকে নিয়ে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ছাত্রী তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষুব্ধ হয়ে শুভজিৎ ব্লেড দিয়ে নিজের হাতের কয়েকটি জায়গায় কাট। বিষয়টি জানতে পেরে কলেজ অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন আহমেদ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ও ওই ছাত্রের মাসতুতো ভাই মনিষ কুমার মণ্ডলকে ডেকে শুভজিতকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। মনিষ কুমার মণ্ডল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি ভ্যানে করে শুভজিতকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু ওই দিন আর বাড়ি ফিরে যাইনি শুভজিৎ। ওই দিন রাত আটটার দিকে খুলনা রেলওয়ে থানা-পুলিশ শুভজিতের পরিবারকে মুঠোফোনে জানায়, শুভজিৎ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। এরপর খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন রোববার বেলা একটার দিকে শুভজিতের লাশ তাঁর পিসতুতো ভাই বিজন মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কলেজ ছাত্রের বাবার অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায় মেয়ের পরিবারের লোকজন তাঁর ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ রেললাইনে ফেলে রেখে গেছে।
মেয়েটির বাবা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কীভাবে ওই ছেলে মারা গেছেন, তা তাঁরা জানেন না।

গতকাল সোমবার শুভজিতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা শিখা সানাসহ স্বজনেরা মাতম করছেন। মা শিখা রানি বিলাপ করে বলেন,‘ওরা কেন আমার সোনা মানিককে মেরে ফেলল। আমি বিচার চাই। শাস্তি চাই।’

শুভজিতের বাবা ভবতোষ সানা অভিযোগ করেন, কলেজছাত্রীর বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে গত শনিবার বিকেলে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দেবব্রত সরকারের বাড়িতে এসে শুভজিৎ সম্পর্কে হুমকি দিয়ে যান। ছাত্রীর বাবা লোকজন দিয়ে শুভজিতকে অপহরণ করিয়ে হত্যার পর লাশ খুলনার রেললাইনে ফেলে রেখে গেছেন।

ছাত্রীর বাবা পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে শুভজিৎ উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তাঁর মেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের জানিয়েছিলেন। গত শনিবার শুভজিৎ উত্ত্যক্ত করার একপর্যায়ে শিক্ষকেরা তাঁর মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি তাঁর মেয়ে বাড়ি ফিরে এসে তাঁদের জানান। তিনি জানান, শুভজিৎ কীভাবে মারা গেছেন, তা তিনি জানেন না।

খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য দেবব্রত সরকার জানান, ওই ছাত্রীর মামা ও বাবা গত শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর বড়িতে এসে শুভজিতের বিরুদ্ধে নালিশ দিয়ে যান। বিষয়টি শুভজিতের বাবা-মাকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা। তবে তাঁরা কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দেননি। পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি তিনি শুভজিতের বাবা-মাকে জানিয়েও এসেছিলেন।

খুলনা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুর রহমান জানান, এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় গত শনিবার একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার আলামত পাওয়া গেলে নতুন মামলা নেওয়া হবে।
আশাশুনি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুভজিতের লাশ গতকাল সোমবার দুপুরে স্থানীয় শ্মশানে সৎকার করা হয়