কোভিড-১৯ পজেটিভ হলে ততক্ষণাৎ করণীয়

28

মহামারি করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বের মতো এদেশেও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই এই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে কোভিড-১৯ ব্যাধি প্রতিরোধের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এজন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও আইসোলেশনে থাকাটাই আক্রান্ত ব্যক্তির একান্ত করণীয়।

অন্যদিকে হাসপাতালে শুধু তাদেরই চিকিৎসা চলছে যারা শারীরিকভাবে নাজুক। এজন্য একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আপনার উচিত আইসোলেশনে থাকা। পাশাপাশি চিকিৎসকের দেয়া পথ্য ও নির্দেশিকা মেনে চলা।

করোনায় আক্রান্ত রোগীর করণীয়: শারীরিক জটিল সমস্যা না থাকলে এই সময় ঘরেই থাকতে হবে কমপক্ষে ১৪ দিন। এজন্য ভালো একটি ঘর বেছে নিন। ঘরের জানালা দিয়ে যেন আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে। বাথরুম যেন ঘরের মধ্যেই থাকে। ঘরের অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে থাকার পুরো বন্দোবস্ত করুন। তা সম্ভব না হলে, অন্যদের থেকে অন্তত এক মিটার (তিন ফিট) দূরে থাকুন ও ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করুন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সময় মেনে চলুন আরো কয়েকটি নিয়ম-

> হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অথবা সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুবেন।

> অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না।

> সাবান-পানি ব্যবহারের পর টিস্যু দিয়ে হাত শুকনো করে ফেলুন। টিস্যু না থাকলে শুধু হাত মোছার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করুন এবং ভিজে গেলে বদলে ফেলুন।

> মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিন। পারলে ঘরেও মাস্ক পরে থাকুন। কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করলে কাপড় কাঁচা সাবান বা গুড়া সাবান দিয়ে কাপড়টি পরিষ্কার করে ফেলুন।

> ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য কারো সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না। প্লেট, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্য কারো সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না।

কতদিন পর কোভিড-১৯ রোগী সেরে উঠবেন?

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ কেউ খুব দ্রুতই সেরে উঠতে পারেন, আবার অন্য কারো ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ দেহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আপনার বয়স, লিঙ্গ, এবং আপনার আগে থেকেই অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কি-না এরকম অনেক কারণই আপনার কোভিড-১৯ সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বিভিন্ন জনের আইসোলেশনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তবে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ সময়সীমা ১৪ দিন। এরপর অবশ্য আবারো টেস্ট করে আপনার করোনা নেগেটিভ এলা কি-না যাচাই করতে হবে।

ঘরে থেকে লক্ষণ গুরুতর আকার নিলে যা করবেন-

কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগ গুরুতর চেহারা নিতে পারে। এটা ঘটে থাকে সংক্রমণের ৭ থেকে ১০ দিন পরে। এই সময় রোগীর অবস্থার পরিবর্তনটা ঘটতে পারে খুব দ্রুত এবং আকস্মিকভাবে।

এক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ফুসফুসে জ্বালা শুরু হয়। এর কারণ হলো দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে পরাজিত করতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে, তা অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই লড়াইয়ের ফলে দেহের ভেতরে অন্য নানা রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

এই সময় অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিকে অক্সিজেন দেয়ার জন্য হাসপাতালে নিতে হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এরকম অবস্থা থেকে সেরে উঠতে দুই থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রোগীর অবসন্নতা স্থায়ী হতে পারে আরো কিছুদিন। সূত্র-বিবিসি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন