খুনি মাজেদ ফাঁসিতে ঝুললেও এখনো পলাতক ৫

গতকাল (শনিবার) রাত ১২ টা ১ মিনিটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি, আবদুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কলঙ্ক মোচনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে এ ফাঁসি কার্যকর হয়।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ৫ জনের ফাঁসির দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় পর বঙ্গবন্ধুর আরেক আত্মস্বীকৃত খুনি বহিষ্কৃত ক্যাপ্টেন মাজেদের ফাঁসি শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হলো।

জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর আগে স্বজনরা আবদুল মজিদের সাথে শেষ দেখা করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সুলতান শাহরিয়ার, রশীদ খানসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে রেডিও স্টেশন নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে ছিলেন মাজেদ। অন্য খুনিদের সঙ্গে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত বঙ্গভবনে বিভিন্ন দায়িত্ব ছিল তার। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় চলে যান মাজেদ। তখনকার সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের নির্দেশেই তারা সে সময় নিরাপদে দেশ ছেড়ে যান ।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি বরখাস্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ ২৫ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মধ্যে এখনো পলাতক পাঁচ জন। এদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, মোসলেম উদ্দিন ভারত ও জার্মানি হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছে বলে তথ্য রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া শরিফুল হক ডালিম, আব্দুর রশিদের অবস্থান এখনো অজানা।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা মামলায় আবদুল মাজেদসহ ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়। পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যায় আসামি আজিজ পাশা।

সূত্র:সময়নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *