গতি বেড়েছে নির্মাণে ॥ ’২১ সালেই যাত্রী উঠবেন মেট্রোরেলে

হলি আর্টিজানে বোমা হামলার ঘটনা ও নোভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা সত্ত্বেও স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে অনেকটা। গত কয়েক মাস কাজের গতি কিছুটা মন্থর থাকলেও এখন পুরোদমে চলছে নির্মাণ কাজ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নির্মাণ কাজের নজরদারি করছেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালুর কথা রয়েছে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি ৪৯ ভাগ। এই অবস্থায় আগামী ১৫ মাসে বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে কোভিড-১৯ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ না করলে নির্দিষ্ট সময়েই কাজ শেষ করা যাবে।

দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল আটটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল দুটি অংশে ভাগ করে এগিয়ে চলছে চলমান রুট-৬ এর কাজ। এরই মধ্যে প্রথম অংশের ৭৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় অংশের ৪২ শতাংশ পূর্ত কাজ শেষ হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে প্রায় বাইশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত এটি একটি ফাস্টট্র্যাক প্রকল্প। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুটে থাকছে ষোলোটি স্টেশন। ২১ কিলোমিটারের বেশি এই প্রকল্পে মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের বর্ধিত কাজ করার উদ্যোগ এখন প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে। এই অংশের দৈর্ঘ্য এক দশমিক ১৬ কিলোমিটার।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারীর মধ্যে মেট্রোরেলের কাজ থেমে না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে সীমিত আকারে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তাদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন। মার্চ থেকে করোনা শুরুর পর ছয় মাস শেষে সেপ্টেম্বর থেকে ফের কাজ চলছে পুরোদমে। আবারও ব্যস্ত হয়ে ওঠছেন শ্রমিকরা। চলছে রাত দিনের কাজ। তবে আগারগাঁও-মতিঝিল অংশটি পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ হলো করোনার কারণে জাপানী ঠিকাদারদের নিজ দেশে আটকে পড়া। তবে জাপানী ঠিকাদারদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে কাজে যোগ দিয়েছেন।

সার্বিক অগ্রগতি ৪৯ ভাগ ॥ চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ছিল ৪০ ভাগ। আট মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে কাজের গতি কমতে থাকে। প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক গড় অগ্রগতি ৪৯ দশমিক ১৫ ভাগ। অর্থাৎ এক ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গত সাত মাসে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র নয় ভাগ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৫০ ভাগ। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৫০ ভাগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ এখনও প্রক্রিয়াধীন। এ অংশের দৈর্ঘ এক দশমিক ১৬ কিলোমিটার। অর্থাৎ এই অংশে এখন কোন কাজ হয়নি। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে।

ট্রেনে ওঠার ধারণা পাবেন নগরবাসী ॥ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জাপান থেকে আনা কোচটি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে ট্রেনে কীভাবে টিকেট কাটতে হবে, কীভাবে উঠতে হবে, দরজা কোনদিকে, কীভাবে নামতে হবে। এখানে সম্পূর্ণ ট্রেন থাকবে না, একটা অংশ থাকবে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গত মার্চে তথ্য কেন্দ্রটি সবার জন্য খুলে দেয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তা পিছিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তথ্য কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে। তবে তারিখ এখনও ঠিক করা হয়নি। অন্যান্য জিনিস এক্সিবিশন সেন্টারে থাকবে। আমরা সেগুলো একটা একটা করে আনব।

মেট্রোর সকল কোচ জাপানে তৈরির কথা জানিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুণগত মান ঠিক রেখে কোচগুলো জাপানে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে আসার পর এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে মিল রেখে চলতে পারছে কিনা তা দেখতে ট্রায়াল রান চলবে। এভাবে একটা একটা করে ট্রেন আসবে এবং ট্রায়াল রানের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

মেট্রোরেলের জনসংযোগ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, জাপান থেকে একটি মকআপ বা রেলের একটি বগির অর্ধেক আনা হয়েছে, যা মেট্রোরেলের এক্সিবিশন ও ইনফর্মেশন সেন্টারে রাখা হবে। মেট্রোরেলের ডিজিটাল সেন্টারটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেলের বিষয়ে মানুষের নানা আগ্রহ রয়েছে। এটি কেমন হবে, কোন্ আকৃতি হবে, এসব বিষয়ে আগ্রহী মানুষ এই প্রদর্শনীতে এসে সরাসরি জানতে পারবেন। এতে যাত্রীরা যখন সরাসরি মেট্রো ব্যবহার করবে তখন অনেক সহজ হবে। ২০১৬ সালের ২৬ জুন এ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে ২০টার মতো স্টাডি করা হয়েছে। এরপর এর বেসিক ডিজাইন করা হয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে।

প্যাকেজ এক-দুই ও পাঁচের অগ্রগতি ॥ মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পটি আটটি প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ এক-এ রয়েছে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন। যা ২০১৬ সালের আট সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের নয়মাস আগে ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সমাপ্ত হয়েছে। এতে সরকারের ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতভাগ। প্যাকেজ-২ রয়েছে ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ। যা ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে মোট ৫২ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। পূর্ত কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ ভাগ। প্যাকেজ পাঁচে রয়েছে আগারগাঁও থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন নির্মাণ কাজ। ২০১৮ সালের এক আগস্ট এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। এই প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৭ ভাগ।

প্যাকেজ ছয়ের অগ্রগতি ৪৮ ভাগ ॥ এই অংশে কাওরানবাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চার দশমিক ৯২২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশন নির্মাণ কাজ চলছে। ২০১৮ সালের এক আগস্ট এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। এই অংশে ১৬০টি পিয়ার কলামের মধ্যে ১১৩টির কাজ শেষ হয়েছে। ২৯৮টি পাইল ক্যাপের মধ্

শেয়ার করুন ও লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: