গ্রিনকার্ড বন্ধের আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

17

নতুন গ্রিনকার্ড ইস্যু বন্ধ রাখার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকটি ব্যতিক্রমসহ আপাতত ৬০ দিন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরে এর মেয়াদ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারিতে তৈরি হওয়া সঙ্কটে আমেরিকান নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের। তবে সমালোচকরা বলছেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসীদের ওপর কঠোর হওয়ার নীতি বাস্তবায়নে মহামারিকে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

গত সোমবার রাতে এক টুইট বার্তায় ‘সব ধরণের অভিবাসন’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। পরে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সমালোচনার শিকার হয়ে খামারের শ্রমিক, হাই টেক কারখানার কর্মীদের মত কিছু বিশেষ খাতের অভিবাসী শ্রমিকদের নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার ঘোষনণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বুধবার হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস মহামারি সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরায় সচল হলে সব ধরনের বেকার আমেরিকানদের প্রথমে চাকুরি পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে।’

গ্রিনকার্ড ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর যে হাজার হাজার সাময়িক কর্মী ভিসা ইস্যু করে তা আক্রান্ত হবে না। এছাড়া ইতোমধ্যে গ্রিনকার্ডের আবেদন করা আমেরিকান নাগরিকদের স্বামী/স্ত্রী এবং ছোট সন্তানদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসক, নার্স বা চিকিৎসেবা সংক্রান্ত অন্য পেশাজীবী যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করেছেন তারাও এতে আক্রান্ত হবেন না। তবে গ্রিনকার্ডধারীদের নিজ পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর করার সুযোগ সীমিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প এই সুবিধাকে অভিবাসন শৃঙ্খল হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন।

উল্লেখ্য, গ্রিনকার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি। এই কার্ডধারীরা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্যও আবেদনের সুযোগ পায়। প্রতিবছর প্রায় দশ লাখ এই কার্ড ইস্যু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর বেশিরভাগই পায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মানুষের স্বজনেরা।