ঘরের সামনে পড়েছিল অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ

0
71

ঘরের সামনে পড়েছিল অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় রাজিয়া খাতুন (২৪) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার খাজুরা-কালীগঞ্জ মহাসড়কের মামুন ব্রিকস এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রাজিয়া খাতুন যশোর সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের শহিদ বিশ্বাসের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী শহিদকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক শহিদ জানান, তিনি স্ত্রী রাজিয়াকে নিয়ে মামুন ব্রিকসে শ্রমিকের কাজ করেন। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাজিয়াকে নিয়ে কর্মস্থল ইটভাটায় ফেরেন। মঙ্গলবার ভোররাতে কয়েকজন লোক ভাটার কর্মচারী পরিচয়ে তার ঘরের দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলা মাত্রই ঘরে ঢুকে তাকে মারপিট শুরু করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পাশের মাঠে পালিয়ে যান। এর দুই ঘণ্টা পর তিনি ভাটার নৈশপ্রহরীকে নিয়ে ঘরে ঢুকলে তার স্ত্রীর বিবস্ত্র নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত ভাটার মালিক মামুনকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন।

শহিদের অভিযোগ, সম্প্রতি ভাটার পার্শ্ববর্তী তৈলকুপ গ্রামের একটি নারীঘটিত ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এজন্য তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকজন লোক এসে তার ওপর হামলা চালায়। পালিয়ে যাওয়ায় তারা তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে।

ইটভাটার নৈশপ্রহরী আবু তাহের বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে কাঁদা-পানি মাখা অবস্থায় শহিদ ভাটার অফিসে এসে আমাকে ডাকেন। শহিদের সঙ্গে গিয়ে দেখি তার স্ত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ ঘরের সামনে পড়ে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ভাটার মালিককে ফোন করে জানাই।

খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জুম্মান খান জানান, ভাটার মালিকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাটার পশ্চিমে ঝুপড়ি ঘরের সামনে মাটিতে ওই গৃহবধূর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত গৃহবধূর স্বামী শহিদও জখম হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে শহিদকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মরদেহের সারা শরীরে ব্লেড দিয়ে কাটা ও ইটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন জানান, নিহতের স্বামী যশোরের চুন্নু হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর গত ১ বছর আগে দেশে ফিরে বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। এলাকায় তার প্রতিপক্ষ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গৃহবধূর স্বামী যশোরে চুন্নু হত্যা মামলার প্রধান আসামি শহিদকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: জাগোনিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে