চরফ্যাশনে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক

7

আগে বলতো হাত বাড়ালে বন্ধু হয়। আর এখন হাত বাড়ালে ইয়াবা পাওয়া যায়। বিশ্বের মধ্যে চীন যখন মানুষের মল থেকে জৈব সার তৈরিতে ব্যস্ত। নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশ গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন আমাদের দেশের হাজার হাজার নারী-পুরুষ মাদক নিয়ে ব্যস্ত। সে তালিকায় চরফ্যাশনের কিছু মানুষ উল্লেখযোগ্য।

৫ দিন অনুসন্ধান করে দেখা যায় চরফ্যাশন উপজেলায় ৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাদকাসক্ত নারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। ৩ শত টাকা প্রতি পিচ ইয়াবার মূল্য হিসেবে দৈনিক আগুনে পুড়েছে ৩০ লাখ, আর প্রতি মাসে প্রায় ৯ কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে মাদক সেবনের মাধ্যমে। এরফলে ফলে সর্বস্ব হারিয়েছে অনেক পরিবার, বিচ্ছেদের ঘটনা ও শোনা যাচ্ছে অহরহ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইয়াবা বিক্রেতা বলেন, কলেজের প্রভাষক, স্কুল শিক্ষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক থেকে বাজার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী পর্যন্ত কিছু লোক ইয়াবা সেবন করে। অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবারকে বাধ্য করে নিজ বসতঘরেই সেবন করছে ইয়াবা প্রতিটি পাড়ায় মহল্লা ইয়াবা বিক্রেতা আছে প্রয়োজন হলে মোবাইল করলে আমরা ক্রেতার নিকট হাজির এখন এটা ঘরে থেকে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়।

চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডে এক ইয়াবা বিক্রেতার পিতার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছেলে প্রতিনিয়ত পরিবারে সকলের সাথে খারাপ আচরণ করছে। উল্লেখযোগ্য কোন কাজ কর্ম করছে না। খোঁজ নিয়ে দেখলাম ছেলে আমার ইয়াবা সেবন ও বিক্রয়কারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে ৬ মাস মনে করেছিলাম ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু না, এখনো ফেরাতে পারিনি এই অন্ধকার জগত থেকে তিনি বলেন, পিতার কাছে সবচেয়ে কষ্টের হচ্ছে তার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ কিন্তু ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে সেই কষ্ট মনে হয় তার চেয়ে বেশি।

পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আখতারুল আলম সামু এ সম্পর্কে বলেন, মাদকের ভয়ঙ্কর নেশা চরফ্যাশনের তরুণ সমাজকে গ্রাস করতে চলেছে। প্রতিটি মহলায় পৌঁছে গেছে ইয়াবা নামের মরণনেশা। প্রত্যেক বাবা মা সচেতন থাকতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে তার সন্তান কোথায় যায়, কি করছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদক বিক্রেতা আটক হলে তাদের বাড়তি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিতে হবে “এটা মাদক বিক্রেতার বাড়ি” তাহলে এ লজ্জায় কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ শামসুল আরেফিন জানান, গত ১৪ মাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় ৯৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মাদক আইনে মামলা হয়েছে ৬৭ টি। তিনি আরো বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি মহোদয় মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আমি আশা করি সকলের সহযোগিতা পেলে কিছুদিনের মধ্যে চরফ্যাশন মাদক মুক্ত হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে