জামিন জালিয়াত চক্রের মূল হোতাসহ তিনজন গ্রেফতার

জামিন জালিয়াত চক্রের মূল হোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি। তাদের কাছ থেকে জামিন জালিয়াতি করার নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ ইউনিটের একটি দল রংপুর জেলার পীরগাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে জামিন জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, তার অপর দুই সহযোগী এবিএম রায়হান ও মোঃ শামীম রেজা।

বুধবার সিআইডির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ বিভাগ বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০১৪ সালের অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি এজাহারনামীয় আসামি মোঃ ইয়ার আলী ওরফে ইয়াদ আলী ওরফে খোরশেদ ওরফে বিল্লালের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

আসামি নি¤œ আদালতে জামিনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর সে প্রতারক চক্রের সদস্য এ্যাডভোকেট মুসরোজ ঝর্ণা সাথীর মাধ্যমে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নতুনভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের আবেদন করে।

জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আপীল আদালত আসামি মোঃ ইয়ার আলীকে ছয় মাসের অন্তঃর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।

পরবর্তীতে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহম্মেদ মামলার মূল কাগজপত্র যাচাই করলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে বিষয়টি পেশ করেন। আদালত আসামির জামিন আদেশটি বাতিল করে। পাশাপাশি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

আদেশ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে এ্যাডভোকেট মুসরোজ ঝর্ণা সাথী ও শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত করছিল সিআইডি। তদন্তের এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিআইডির একটি দল সম্প্রতি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ্যাডভোকেট ঝর্ণা সাথীর সহকারী মোঃ হারুন-রশিদ ওরফে হারুনকে গ্রেফতার করে। হারুনের পিতার নাম মৃত আব্দুর রাজ্জাক। মায়ের নাম সখিনা বেগম। বাড়ি নবাবগঞ্জের রূপারচর গ্রামে।

হারুন আদালতে জালিয়াতির ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে জামিন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বশেষ জামিন জালিয়াত চক্রের হোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডির অভিযানে আসামিদের হেফাজত হতে জামিন জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হাইকোর্ট, জজকোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ডেপুটি জেলারসহ অন্যান্যদের মোট ৪৩টি ভুয়া সিল ও একটি কম্পিউটার জব্দ হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগপত্র ইত্যাদি সুবিধামতো ভুয়াভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আসামিদের জামিনে মুক্ত করার কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের অন্যান্য সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির উর্ধতন কর্মকর্তার্ াউপস্থিত ছিলেন।

সুত্র:- দৈনিক জনকণ্ঠ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *