তিনমাসে চোরাইকৃত ৩৬ মোবাইল উদ্ধার করলেন তিনি!

নির্মলেন্দু চক্রবর্তী। তিনি সিলেট মহানগরীর ব্যস্ততম থানা কোতোয়ালি মডেল এর সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি)। গেল তিনমাস পূর্বে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগদান করেন। যোগদানের তিনমাসের মাথায় ৪০টি জিডির প্রেক্ষিতে ৩৬টি চোরাইকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩৬টি মোবাইল উদ্ধার করা এ পুলিশ অফিসার বলেন, জনগণের সেবা প্রদান করতে পুলিশ সবসময় অগ্রণি ভুমিকা পালন করে থাকে। আমরাও করে যাচ্ছি।

সম্প্রতি ছিনতাই চুরির মোবাইল উদ্ধারে সর্ম্পকে বলেন, এটা আমার একার বিস্ময়কর সাফল্য নয় এটা কোতোয়ালি থানা সকল পুলিশের সাফল্যে।

তিনি জানান, মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই কিংবা হারিয়ে গেলে অভিযোগ পেলেই তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সে কারণে সাফল্যে আসে। অভিযোগ ছাড়াও অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে ফেরত দিয়েছে পুলিশ। গত অক্টোবর থেকে চলিত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০ এর অধিক জিডির বিনিময়ে ৩৬টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, আমাদের কে না জানালে তো আমরা জানবো না। মোবাইল চুরি বা হারানো গেলে থানায় জিডি’র পাশাপাশি আমার দপ্তরে সরাসরি অভিযোগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, মোবাইল ফোন হারানো, ছিনতাই বা চুরি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেসব ফোন উদ্ধার করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ কমিশনারের দপ্তরেই মোবাইল ফোন হারানোর ব্যাপারে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। সেসব অভিযোগ দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করে আইসিটি বিভাগ।

একটি আইফোন চুরির ঘটনায় সেটি উদ্ধার এবং প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেয়ার ইস্যু টেনে কোতোয়ালি মডেল থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, অভিনব কায়দায় জিন্দাবাজার থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি কুলাউড়া হতে উদ্ধার করা হয়। বিকাশের হেল্প লাইনের মাধ্যমে বিকাশ প্রতারণার জালিয়াতির ২৬০০০ টাকা জিডি করার ৫ ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করে দেওয়া হয়। বছরের প্রথম দিন, দি এইডেড হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক স্বপন বাবুর আট মাস আগের হারিয়ে যাওয়া ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এম.এম.ওয়াহিদুল হাসান শাকিল নামের এক ব্যক্তি হারানো মোবাইলের আত্মকথা নিয়ে বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস ২৭ দিন পর যে আবার ফোন ফিরে পাব সত্যিই অবিশ্বাস্যনীয়। ২৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে রুম থেকে চোর ফোনটা চুরি করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৭ মাস ২৭ দিন পর বিস্ময়রকভাবে ফোনটি ফেরত পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত চোরের কাছ থেকে এই ফোন উদ্ধার করে স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ আমাকে খূঁজে বের করেছে। সেজন্য নগর পুলিশকে অভিনন্দন।

এসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, অভিযানে চোর, ছিনতাইকারী বা অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারের পর তাদের কাছে যেসব চুরি ছিনতাইয়ের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়- সেগুলোর প্রকৃত মালিককে আমরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে খুঁজে বের করি। এরপর প্রকৃত মালিককে থানায় ডেকে তার ফোনটি ফিরিয়ে দেই।’

জানা যায়, এসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ১৯৯৩ সালে পুলিশে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তিনি সিলেটে আসেন। সিলেটে মহানগর আদালতের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করার পর মোগলাবাজার থানায় এসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বদলি করা হয় দক্ষিণ সুরমা থানায়। দক্ষিণ সুরমা থানায় দেড় বছর সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর তাকে কোতোয়ালী মডেল থানায় বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) এর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তীর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর এলাকার নতুনপাড়ায়।

সুত্র: পূর্বপশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *