দেড়শ কোটি টাকার শিম উৎপাদন

সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রায় ৩হাজার হেক্টর জমিতে শিমচাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হেক্টর প্রতি যদি ২০টন শিম হয় তবে ৬০ হাজার টন শিম উৎপাদন হবে এ মৌসুমে। প্রতি কেজি শিমের দাম গড়ে ২৫ টাকা ধরলে যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৫০ কোটি টাকা।

শিম চাষে বাম্পার ফলনের কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এবার শিম মৌসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে, জমির আইলে, খালের পাড়ে, বেড়িবাঁধের দুইপাশ, পাহাড়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুপাশসহ সব জমিতেই শিমের চাষ করে। তাই দেখলে মনে হয় সীতাকুণ্ড এক শিমের রাজ্য!

পৌরসভাস্থ নুনাছড়ার কৃষক শরীফুল্লাহ বলেন, এবারো শিম চাষ লাভজনক হয়েছে। এই চাষে তিনি মাত্র ৩ মাস সময় দিয়ে ভালো আয় করেছেন বলে জানান। বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের উত্তর ফেদাইনগরের শিমচাষি জসিম উদ্দিন বলেন, বংশ পরম্পরায় কাত্তিকোটা, ছুরি, পুঁটি, বাটাসহ ছয় ধরনের শিমের চাষ হয়ে আসছে সীতাকুণ্ডে। মৌসুমের প্রথম থেকে শুরু করে মাঝামাঝি পর্যন্ত পরিপক্ব শিম পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়।

এরপর দাম কমে গেলে কাঁচা শিমের বিচি খুলে নিয়ে বিক্রি করা হয়। যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘খাইস্যা’ নামে পরিচিত। শুকনো শিমের বিচি সারা বছরই বিক্রি হয়। পৌর সদরের শেখ নগর এলাকার চাষি মনোরঞ্জন দাশ বলেন, এখন আমার প্রতিকেজি শিম ২৫-৩০টাকা বিক্রি করছি। তবে আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমে যাবে।

তারপরও শিমচাষ বোরো ধানের চেয়ে লাভজনক। সবচেয়ে বড় কথা সীতাকুণ্ডের মাটি শিমচাষের জন্য উপযোগী।
সীতাকুণ্ডের শিম রফতানি হলে আমরা আরও বেশি লাভবান হবো। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, দক্ষিণ সীতাকুণ্ডে ফসলী জমি কম, শিল্প-কারখানা বেশি। উত্তর সীতাকুণ্ডে চাষের জমি বেশি। শীতকালে এ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়। এর মধ্যে শিমচাষই হয় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

বিশেষ করে বারৈয়ারঢালা, নুনাচরা, বটতল, শেখপাড়া, গুপ্তাখালি, বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বাড়বকুণ্ড এলাকায় শিমচাষ বেশি হয়। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য স্থানে একই জমিতে তিনবার চাষ হয় আউশ, আমন, বোরো। কিন্তু সীতাকুণ্ডে বোরো ধানের বদলে চাষিরা শিমের চাষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *