সংবাদ শিরোনাম
Home / ধর্ম / পানি সম্পর্কে কোরআনের বিষ্ময়কর তথ্য

পানি সম্পর্কে কোরআনের বিষ্ময়কর তথ্য

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের মধ্যে পানি অন্যতম। পানি ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। কেননা পৃথিবীর সব প্রাণের উৎস পানি এবং আমরা সবাই পানির ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহ তায়ালা পানিকে শুধুমাত্র মানুষের পান করার চাহিদা মিটানোর জন্যই তৈরি করেননি। পানিকে করেছেন সৃষ্টির বিভিন্ন কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।পানি সম্পর্কে কোরআনের বিষ্ময়কর তথ্য-

মাখলুক সৃষ্টিতে পানি: আল্লাহ তায়ালা মাখলুক সৃষ্টিতে পানি ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন পানি হতে, ওদের কতেক পেটে ভর দিয়ে চলে (সাপ), কতেক দুই পায়ে চলে (মানুষ) এবং কতেক চলে চার পায়ে (জন্তু-জানোয়ার) আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ (সূরা: নুর : আয়াত : ৪৫)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখেনা যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম, এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না। (সূরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)।

ফসল উৎপাদনে পানি: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জীবিকা তথা ফলমূল তৈরিতে পরিমাণ মতো পানি দান করে থাকেন। যা ছাড়া কোনো ফলমূল উৎপন্ন হতো না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।’ (সূরা : বাকারা, আয়াত : ২২)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘আমি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মতো, অতঃপর আমি তা জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করে থাকি।

অতঃপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্য এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক।’ (সূরা: মুমিনুন, আয়াত: আয়াত: ১৮-১৯)।

পিপাসা নিবারণে পানি: মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের পিপাসা নিবারণের জন্য সুস্বাদু পানির ব্যবস্থা করেছেন। যা ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন? না আমি বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?’ (সূরা: ওয়াকিয়া, আয়াত: ৬৮-৭০)।

ইবাদাত বন্দেগিতে পানি: পানি স্বভাবত পবিত্র। পবিত্র বিধায় তা ভক্ষণ যোগ্য। পানি পবিত্র বিধায় অন্যকেও পবিত্র করে তোলে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি।’ (সূরা: ফুরকান, আয়াত: ৪৮)।

আসুন আমরা পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সে তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ও লাইক দিন

Check Also

এবার ঈদযাত্রায় বাড়তি প্রস্তুতি নেই

এবার ঈদযাত্রায় বাস মালিক-শ্রমিকদের বাড়তি প্রস্তুতি নেই। অগ্রিম টিকিট বিক্রির আয়োজনও নেই। ঈদযাত্রায় যোগ হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *