ফেসবুকে পুরনো প্রেমিকার সন্ধান, খুন হলেন স্বামী!

স্বামী অরূপ চট্টরাজ ও পাপড়ি সংসার ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ তাদের সুখের সংসার ভেঙে তছনছ। ফেসবুকে পুরনো প্রেমিকা পাপড়িকে খুঁজে পায় অজয়। পাপড়ি ও তার প্রেমিক অরূপকে একাধিকবার ডিভোর্স দিতে বলেছিল। কিন্তু অরূপ চট্টরাজ তা মেনে নেননি। স্বামীর থেকে রেহাই পেতেই প্রেমিকের সঙ্গে অরূপকে খুন করতে সহায়তা করে পাপড়ি।

নিহত অরূপ চট্টরাজ ভারতের পুরুলিয়ার রবীন্দ্র পল্লির বাসিন্দা ও নিস্তারিনী মহিলা মহাবিদ্যালয়ের আংশিক সময়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পুরুলিয়া শহরের জেকে কলেজ থেকে গণিতে অনার্স করে খুনি অজয়। এরপর দেশের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের আধারতাল থানার নিউ রামনগরের আমখেরায় চলে যায়। ফলে কলেজে পড়ার সময় পাপড়ির সঙ্গে প্রেম হলেও সেই সম্পর্কে তাল কাটে। সেখানেই এমসিএ করে জব্বলপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষকের কাজ শুরু করে সে। এরই মধ্যে ফেসবুকে পাপড়িকে খুঁজে পায় সে। এরপরই পুরনো প্রেমিকাকে ফের ফিরে পেতেই এই ঘটনা।

মঙ্গলবার রাত আটটার পর ঘটনার পুনর্নির্মানের জন্য খুনি অজয়কে নিয়ে অধ্যাপক খুনের ঘটনাস্থল অর্থাৎ তার বেডরুমে যান তদন্তকারীরা। তখনই জানা যায়, খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দড়ি দিয়ে অধ্যাপককে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল খুনিরা। কিন্তু অধ্যাপকের চিৎকারে তার মা ঘরের কাছে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাই যে হলুদ দড়ি নিয়ে অধ্যাপককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। সেই দড়ি বেয়েই ছাদ থেকে নিচে নেমে যায় ‘খুনি’ অজয়।

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার এস. সেলভামুরুগন বলেন, ১৭ জানুয়ারি রাত আটটা দিকে এক ছাত্রীকে পড়াচ্ছিল অধ্যাপকের স্ত্রী পাপড়ি। সেই ছাত্রী বের হওয়ার সময় সুকৌশলে ঘরে ঢুকে পড়ে অজয়। তখন টিভি দেখছিলেন অরূপের বাবা–মা। অধ্যাপকের বেড রুমের ফিউজ খুলে ‘খুনি’ লুকিয়ে পড়ে সিঁড়ি ঘরে। সেখানে বসেই মেসেজে পাপড়ির সঙ্গে কথা বলছিল অজয়। এরপর ‘অপারেশন’ সেরে দড়ি বেয়ে নামার সময় চোটও পায় আজয়।

সেখান থেকে বেরিয়ে রাতে পুরুলিয়ার রাঁচি রোডে প্রেমিকা অর্থাৎ পাপড়ির বান্ধবীর কাছেই থাকে অজয়। ‘খুনি’ হাতে গ্লাভস জড়িয়ে শ্বাসরোধ করেই খুনের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অধ্যাপক তাকে দেখে ফেলায় মাফলার পেঁচিয়ে অধ্যাপক অরূপকে খুন করে অজয়।

সুত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *