বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত আরও তিনজন মারা গেছেন

8

বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজন মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা ১৫ জুলাই বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে মারা গেছেন। এদের মধ্যে দু’জন টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ (টিএমসি) ও রফাতউল¬াহ কমিউনিটি হাসপাতালের মুখপাত্র আব্দুর রহিম রুবেল জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় অর্জুন সাহা (৩৫) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এর ১৬ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ওই হাসপাতালের আইসিইউতে তে মো: আব্দুল হান্নান (৬৬)  নামে আরেক ব্যক্তি মারা যান।  

ওই হাসপাতালের মুখপাত্র আব্দুর রহিম রুবেল জানান, অর্জুন সাহার বাড়ি সদর উপজেলার মানিকচক সাহাপাড়া এলাকায়। তিনি মাটিডালী এলাকায় সাইকেলের বিভিন্ন পার্টস বিক্রির ব্যবসা করতেন। 

মারা যাওয়া অর্জুন সাহার বাবা প্রদীপ সাহা বলেন, অর্জুন আমার একমাত্র ছেলে। তার ডায়াবেটিস ও কিডনীজনিত সমস্যা ছিল। একই সাথে করোনা উপসর্গ থাকায় গত ২৭ জুন অর্জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলে সেই ফলাফলে পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়।

অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে আমরা গত ৩জুলাই টিএমএসএস চিকিৎসকদের পরামর্শে করোনা ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। পরে ১৪ জুলাই, আবার করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা টিএমএসএস এর  পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। বুধবারে আসা ফলাফলেও করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হয় অর্জুন। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। 

অপরদিকে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যাওয়া আব্দুল হান্নান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের গোরনা এলাকায় হলেও তিনি শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় বসবাস করতেন।

এছাড়া তিনি জেলার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক বগুড়ার স্টাফ রিপোর্টার জহুরুল ইসলামের বড়ভাই। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে টিএমএসএস হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল মুখপাত্র আব্দুর রহিম রুবেল।

মারা যাওয়া আব্দুল হান্নানের ভাই আলমগীর কবির বলেন, আমার ভাইয়ের মাথা ব্যথা, জ্বর ও কাশি উপসর্গ দেখা দিলে গত ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে টিএমএসএস হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করি।

পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরেরদিন করোনা পরীক্ষা করলে সেই ফলাফলে তিনি পজিটিভ বলে শনাক্ত হন। হঠাৎ করে গত ১৫ জুলাই রাত থেকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

হাসপাতালের মুখপাত্র আব্দুর রহিম রুবেল জানান, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দুটি মৃতদেহকেই ধর্মীয় বিধান অনুসারে জীবানুমুক্ত করে দাফন ও দাহ করার জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে  ফিরোজ হোসেন (৫২) নামে  এক পরিবহণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালের মুখপাত্র ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ইউনিটের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফিরোজ হোসেন জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনা পজিটিভ অবস্থায় গত ৬ জুলাই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন।  

তিনি শহরের কামারগাড়ী এলাকার কফিল উদ্দিনের পুত্র।  ফিরোজ হোসেনের স্ত্রী জানান, ১৪দিন আগে তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে  কোভিড ১৯ পজিটিভ আসে এবং ১০দিন আগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। 

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার ৬ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী  টিমের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসলিম দুটি মৃতদেহকে ধর্মীয় নিয়মানুসারে দাফনের জন্য প্রস্তুত করে  হাসপাতল চত্বরেই জানাজা শেষে নামাজগড় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

অপরদিকে অর্জুন সাহার মৃতদেহ বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মোতাবেক সৎকারের  উপযোগী করে  ফুলবাড়ি শ্মশান এ দাহ করা হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে