ভ্যাকসিনের ব্যাপারে পোপের সতর্কবার্তা

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধনী দেশগুলো প্রাধান্য পাবে- এমনটা ঠিক না বলে মনে করেন পোপ ফ্রান্সিস। তার মতে, ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ধনীদের বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোকেও ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। তা না হলে এই সংকট মোকাবেলা কঠিন বলে সতর্ক করেন তিনি।

বুধবার সাপ্তাহিক বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন পোপ। তিনি বলেন, এই মহামারি একটি বড় সংকট। কিন্তু আমরা সবাই এর থেকে এক সময়ে বের হয়ে আসতে পারব না। এর কোনো সমাধান নেই, তবে ভালো একটি উপায় আছে কাছাকাছি সময়ের মধ্যে এই সমস্যা থেকে সবার বের হওয়ার।

পোপ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক যে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে তা গ্রহণের অগ্রাধিকার ধনীরা পাবে। এই মহামারি দরিদ্রদের ওপর কয়েক স্তরের সংকট ডেকে এনেছে। বিশ্বও সাক্ষী হয়েছে বৈষম্যের। তাদের ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগটি আগে দেয়া হলে সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।

পোপ ফ্রান্সিস বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি দরিদ্রদের দুর্দশা এবং বিশ্বে জেঁকে বসা ব্যাপক বৈষম্য উন্মোচন করেছে।

‘একদিকে একটি ক্ষুদ্র, তবে ভয়ঙ্কর ভাইরাসের প্রতিষেধক সন্ধান করা জরুরি, যা পুরো বিশ্বকে তার হাঁটুর কাছে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, আমাদের বৃহৎ একটি ভাইরাসও অবশ্যই নির্মূল করতে হবে। এই ভাইরাস হলো- অবিচার, সুযোগের অসমতা, প্রান্তিকীকরণ এবং দুর্বলদের সুরক্ষার অভাব।’

করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে খ্রিস্টান এই ধর্ম গুরু বলেন, মানুষ নিশ্চিতভাবেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। কিন্তু এই স্বাভাবিকতায় অবশ্যই সামাজিক অবিচার এবং পরিবেশের অবক্ষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না।

তিনি বলেন, আজ আমরা ভিন্ন ধরনের কিছু করার উপলক্ষ পেয়েছি। আমরা গরীবদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়। তারপর থেকে গত ৮ মাসে এই ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে এক অচলাবস্থা তৈরি করে প্রাণ কেড়েছে ৭ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষের। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের দুই শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পৌঁছেছে অন্তত ২৪টি ভ্যাকসিন। এছাড়া কয়েকটি ভ্যাকসিন শেষ ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে যেকোনও একটি সফল ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তবে গত ১১ আগস্ট বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনের শেষ ধাপের পরীক্ষা এখনও শেষ না হওয়ায় ভ্যাকসিনটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন ও লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: