মমেক হাসপাতালে ‘ক্যাথল্যাব’ চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চালু হতে যাচ্ছে হার্টে রিং পরানোর সর্বাধুনিক যন্ত্র ‘ক্যাথল্যাব’। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘প্রধান অতিথি’ করার ব্যাপারে একটি মহল হাসপাতালের পরিচালককে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্যাথল্যাবের কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

গেল সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে কে হতে চান প্রধান অতিথি, তার নাম স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়নি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ ওই স্ট্যাটাসের শুরুতেই লিখেছেন, ‘আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যাথল্যাব চালু হওয়ার কথা থাকলেও একটি মহল কোনো এক নেতাকে প্রধান অতিথি করা নিয়ে দৌড়ঝাপ ও সমস্যা তৈরি করছে। আমি চার বছর তিন মাসে স্বেচ্ছায় কোথাও প্রধান অতিথি বা উদ্বোধক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিনি। আমি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করি, আমার কারো স্বীকৃতির বা সম্মানের প্রয়োজন নেই।’

স্ট্যাটাস দেওয়ার পর অনেকেই কমেন্টস বক্সে প্রধান অতিথির নাম জানতে চান। আবার অনেকেই পরিচালকের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে সাহস জুগিয়েছেন।

জানা যায়, রক্তনালীর ভেতরে রক্ত চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে বেলুনের মাধ্যমে রিং বা কার্ডিয়াক স্টেন্ট স্থাপন করতে হয় এ ক্যাথল্যাব যন্ত্রের মাধ্যমে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ক্যাথল্যাব মেশিন দিয়ে হৃদরোগ বিষেশজ্ঞরা হার্টের নিজস্ব রক্তনালীর রক্ত চলাচল কেমন আছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ রক্তনালীতে রক্ত চলাচলে বেলুন ও রিংয়ের (স্টেন্ট) মাধ্যমে সচল করতে পারবেন। এর মাধ্যমে এখানকার হার্ট অ্যাটাকের রোগীরা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

সূত্রটি আরও জানায়, সরকারি ফি অনুযায়ী রিং বা স্টেন্ট পরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বেলুন, স্টেন্ট, ক্যাথেটারসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্য রোগীকে দিতে হবে। মূল্য তালিকা কার্ডিওলজি বিভাগে দেওয়া থাকবে। এছাড়া টেম্পোরারি পেসমেকার, পার্মামেন্ট পেসমেকার স্থাপন করার কাজও চলবে সরকারি মূল্যেই। তবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে এনজিওগ্রাম এবং স্টেন্ট পরানোর ব্যবস্থা থাকবে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাজীপুরের একাংশের মানুষ এখানে চিকিৎসা সেবা নেন। এ হাসপাতালের ২০ শয্যার হৃদরোগ বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু ক্যাথল্যাব মেশিন না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। তবে, অত্যাধুনিক এ ক্যাথল্যাব চালু হলে রোগীদের এ ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সুত্র: র্বাতা২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *