মহিমাগঞ্জে ভূ-গর্ভস্থ বালু তোলায় ৯০ পরিবার হুমকীর মুখে

মহিমাগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা বাঙ্গাবাড়ীর নিতৃত পল্লী ভাংরীপাড়ায় আশ্রয় নেতায় ৯০টি পরিবার স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ীর দৌড়াতেœ আবারও বাড়ী-ঘর হারানোর আশংকায় শংকিত হয়ে পড়েছেন। অবাধে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের ফলে যেকোন মূহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে বাড়ী-ঘর এবং ঘটতে পারে প্রাণহানী।

জানাগেছে, জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন কবলিত নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙ্গনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানো মানুষজন প্রায় ২০ বছর আগে একটি জনবসতি গড়ে তোলেন। স্থানীয় মানুষ কাকতালীয়ভাবে এই পাড়ার নাম দিয়েছে “পান্তামারী ভাংরীপাড়া”। নি¤œ আয়ের হারভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তোলা এই পাড়ায় রয়েছে ৯০টি পরিবার। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি মুসলিম এবং ৩০টি হিন্দু মৎস্যজীবি পরিবার রয়েছে। অতীতের সকল দু:খ-কষ্ট ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা যখন সূখী জীবনের পথে এগিয়ে চলেছেন ঠিক সেই মূহুর্তে পান্তামারী এলাকার মৃত আব্দুল হাই মুন্সির ছেলে বালু ব্যবসায়ী আবু সাঈদ (৫৫) এর বে-পরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে আবারও হুমকীর মুখে পড়েছেন পান্তামারী ভাংরীপাড়ার বাসিন্দারা।

সরেজমিনে বালু উত্তোলনের ওই স্থান পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, আবু সাঈদ ও তাঁর দুই পুত্র বিরতিহীনভাবে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করছেন। ইতোমধ্যেই পাশের জমির বেশ কিছু অংশের মাটি ধ্বসে পড়েছে। এবিষয়ে বালু ব্যবসায়ী আবু সাঈদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে একটি পুকুর খননের জন্য ভূ-গর্ভস্থ মাটি তোলা হয়েছে কিন্তু এখন আবারও ভূ-গর্ভস্থ বালু তুলে এই পুকুর ভরানোর চেষ্টা করছি। আবাদী ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ বালু তোলা আইনত: অপরাধ হিসেবে দাবী করে একই এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার অসহায় এই এলাকার লোকজন একজন বালু ব্যবসায়ীর কারণে আবারও শংকিত হয়ে পড়েছে। একই এলাকার তৌহিদুর রহমান সবুজ অবিলম্বে এই বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদীভাঙ্গণের শিকার অসহায় পরিবারগুলোকে রক্ষায় প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।

সূত্র:মানিক সাহা

গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *