সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে, ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া মানুষ

দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে আবারো জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পুরো জেলা, সঙ্গে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে মাঘ মাসের শীতে জবুথুবু অবস্থা এ জেলার পাঁচ উপজেলার জনজীবন। গেল কয়েক দিন পর আজ আবারো সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়।

আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বলে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেন। এর আগে সকাল ছয় টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, আজ সকাল নয়টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ছয় দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হিমালয়ের হিম বাতাস ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ জেলায় শীতের তাপমাত্রা উঠানামা করছে। আরও দু-একদিন এমন আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কনকনে শীতের সঙ্গে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও হিমালয়ের হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এ জেলার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। সময় মতো কাজে যেতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে। যারা কনকনে হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বেড়িয়েছে তারাও কাজে পৌঁছাতে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে।

এদিকে ঘন কুয়াশায় পুরো পঞ্চগড় ঢেকে যাওয়ায় দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালাতে হিমসিম খাচ্ছে চালকরা। তবে কয়েক দিন ঘন কুয়াশার পর আজ সাড়ে দশটার পর আকাশে কিছুটা সূর্যের আলোর দেখা মিলছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গরীব ও শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রায় পঞ্চাশ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে গরীব ও শীতার্ত মানুষেরা শীতবস্ত্র না পেয়ে শীতবস্ত্রের অভাবে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছে। তাছাড়া কনকনে হাড় কাঁপানো শীতে দিন দিন হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *