সুস্বাস্থ্যের জন্য কতক্ষণ ঘুমাবে মুমিন

স্বাস্থ্য মহান আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত ও আমানত। তাই সুস্থতার মর্যাদা রক্ষা যেমন জরুরি তেমনি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবহেলা করাও অনুচিত। সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিত বিশ্রাম গ্রহণ করা আবশ্যক। স্বাস্থ্য সচেতনতায় যেমন নিয়মতান্ত্রিক ঘুমের প্রয়োজন আবার অসময়ের ঘুম এবং বিশ্রামও পরিহার করতে হবে। স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি তাহলো-
> ঘুমের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। এত কম না ঘুমানো, যাতে শরীরের আরাম ও শান্তির ব্যাঘাত ঘটে। কম ঘুমের কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্লান্তি ও অশান্তি অনুভূত হয়। আবার বেশি ঘুমানো যাবে না। যাতে অলসতা ও দুর্বলতা চলে আসে।

> ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গঠন করা।
> রাতে দেরি না করে দ্রুত ঘুম যাওয়া এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা।
> ভোরে ঘুম থেকে উঠে মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে দিন শুরু করা।
> সকালে বাগান কিংবা মাঠে পায়চারি করা। প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া। কারণ ভোরের তাজা বাতাস শরীরের জন্য অনেক উপকারি।
> সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালবেলা যথাযথ নিয়মে হালকা ব্যয়াম করার চেষ্টা করা।

সুস্বাস্থ্যের প্রতি বিশ্বনবির সতর্কতা: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালবেলা বাগানে ভ্রমণ করা পছন্দ করতেন। কখনও কখনও তিনি নিজে্ই বাগানে চলে যেতেন। আবার ইশার নামাজের পর জেগে থাকা কিংবা অযথা কথাবার্তা বলতে তিনি নিষেধ করতেন। হাদিসে এসেছে- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- ইশার পর এমন ব্যক্তি-ই জেগে থাকতে পারে, যার দ্বীনি আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে কিংবা ঘরের লোকদের সঙ্গে জরুরি কথা-বার্তা বলার প্রয়োজন আছে।’

অর্থাৎ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথার দ্বারা বুঝা যায়, বিনা প্রয়োজনে ইশার নামাজের পর জেগে থাকা, না ঘুমানো বেহুদা কাজ। যা তিনি কখনও করতে না। কেননা ইশার ঘুমিয়ে পড়লে শেষ রাতে জেগে উঠতে যেমন কষ্ট হয় না, আবার ঘুমের ক্লান্তিও শরীরে থাকে না।

সুন্দরভাবে রাতের নামাজ তাহাজ্জুদ, সকালের ফজর নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা যায়। আর তাতে মানুষের মন ও শরীর থাকে ফুরফুরে কাজের উপযোগী।

রাতে যদি কারো ঘুম না আসে তবে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া পড়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। নিয়মিত চেষ্টায় ইনশাআল্লাহ ঘুম চলে আসবে। হাদিসে এসেছে- হজরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুঃশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করো (ঘুমাতে যাও) তখন বলো-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি ঝারাম মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম ঝামিআ। আইঁইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁইয়াবগিয়া আলাইয়্যা আয্যা ও ঝাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (মুসলিম, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুস্বাস্থ্যের জন্য যথাযসময়ে যথাযথ ঘুম ও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ইবাদত-বন্দেগি তথা যথাসময়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতায় হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: